‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৯ তরুণ লেখক
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে তরুণ লেখকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক পুরোনো ও গভীর, আর আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘নি হাউ চায়না’ রাইটিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬-এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লি শাওপেং এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (অ্যাবকা) ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, দেশটির সংস্কৃতি এবং সেখানে নিজেদের পড়াশোনা ও জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা প্রবন্ধের ভিত্তিতে তিনটি বিভাগে মোট নয়জন তরুণ লেখককে এবার এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।যেসব বিভাগে যারা পুরস্কৃত হলেন‘চীনের গভর্ন্যান্স ও উন্নয়ন মডেল’ বিভাগে প্রথম হয়েছেন মো. সৈকত হোসেন। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইয়েদুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন এ কে এম কনক পারভেজ।‘চীনে শিক্ষা ও জীবন অভিজ্ঞতা’ বিভাগে সবার ওপরে ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) এর এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ মনসুর আলম জিসান। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছেন মো. আবু কাওসার এবং তৃতীয় হয়েছেন মো. মনজুরুল হাসান।‘চীনের সংস্কৃতি, পর্যটন ও প্রধান পর্যটন গন্তব্য’ বিভাগে নিজেদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রথম হয়েছেন মো. তালেবুর ইসলাম। দ্বিতীয় হয়েছেন আফিফা ইবনাত লামিয়া এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন মোহাম্মদ শোয়াইব।চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে চীনা ভাষা শেখা শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ৫১টি লেখা জমা পড়ে প্রতিযোগিতায়, যেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি বিভাগে বিজয়ী বাছাই করা হয়।লেখাগুলো মূল্যায়নের জন্য গঠিত তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগী অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বশির উদ্দিন খান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম ইমশিয়াত।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাবকার সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. আবু কাউসার স্বপন। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অ্যাবকার সাধারণ সম্পাদক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক, তাকে সহযোগিতা করেন সংগঠনের সমাজসেবা সম্পাদক জান্নাতুন নাহার।সহ-আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক মা শিয়াওইয়ান। বিজয়ীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কনক পারভেজ।সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম এই প্রতিযোগিতার তাৎপর্য এবং তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মিরাজ আহমেদ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সওদাগর মেজবাহ আলম, অ্যাবকার যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হাসান, বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিওয়াইএসএ) অফিস সম্পাদক মোহাম্মাদ আদিল এবং সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ড. জান্নাতুল আরিফসহ দুই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।
লেখকঃ মনসুর আলম জিসান
Adil
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : [email protected]।