পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (WAICO)-তে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (WAICO)-এ পর্যবেক্ষক (Observer) সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক AI গভর্ন্যান্সে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
WAICO একটি স্বাধীন আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার সদর দপ্তর চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত। ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (WAIC) ২০২৬-এ ২৯টি দেশের যৌথ উদ্যোগে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ইরান, জাম্বিয়া, কম্বোডিয়া সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ। চীনের পক্ষে তৎকালীন তাঁদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াংই এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক AI সহযোগিতা জোরদার করা, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য AI উন্নয়ন নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালার আলোকে একটি কার্যকর বৈশ্বিক AI গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা। WAICO-এর অন্যতম প্রধান দর্শন হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও এর নীতিনির্ধারণ যেন কেবল কয়েকটি প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য হয়।
WAIC ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং WAICO প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন এবং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমন একটি বৈশ্বিক জনসম্পদে (Global Public Good) পরিণত করতে হবে, যা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে কাজ করবে। তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৫,০০০টি AI প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, ছয়টি আন্তর্জাতিক AI অ্যাপ্লিকেশন সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং AI অবকাঠামো ও আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা হবে। প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বৈশ্বিক AI সহযোগিতা ও সুশাসন জোরদারের প্রতি সমর্থন জানান।
বাংলাদেশ ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে WAICO-তে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ভোটাধিকার না পেলেও সংস্থার বিভিন্ন বৈঠক, নীতিগত আলোচনা এবং যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক AI নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, WAICO-তে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ AI গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নীতিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে। চীনের ঘোষিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সেবায় AI-এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে চীন এবং অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশও WAICO-তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। দ্রুত বিকাশমান তথ্যপ্রযুক্তি খাত, দক্ষ সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং উন্নয়নশীল দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে AI প্রয়োগের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে সংস্থাটির একটি মূল্যবান অংশীদারে পরিণত করতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক AI সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাপী AI প্রযুক্তিকে ঘিরে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। WAICO-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের AI সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি উন্মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক AI ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Raoha
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : [email protected]।