চীনা নববর্ষ উদযাপন: চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন আয়োজন।
চীনা নববর্ষ, যা আন্তর্জাতিকভাবে লুনার নিউ ইয়ার বা স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল নামেও পরিচিত, চীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এটি চন্দ্রপঞ্জিকার প্রথম অমাবস্যায় শুরু হয় এবং সাধারণত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পালিত হয়। এবছর ফেব্রুয়ারি ১৭-২৩ তারিখ স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল অথবা চীনা নববর্ষ পালিত হচ্ছে। প্রায় ৪,০০০ বছরের পুরোনো এই উৎসবের সূচনা কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে, যেখানে নতুন বছরকে ঘিরে শুভ শক্তির আহ্বান এবং অশুভ শক্তির বিদায় কামনা করা হতো।
এবছরের চীনা রাশিচক্রের প্রতীক হচ্ছে ঘোড়া। চীনা রাশিচক্রে ১২টি প্রাণীর মধ্যে ঘোড়া শক্তি, গতি, আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগতির প্রতীক। ঘোড়ার বছর সাধারণত উদ্যম, কর্মস্পৃহা এবং সাফল্যের ইঙ্গিত বহন করে। এছাড়াও লাল রঙ, লণ্ঠন, ড্রাগন ও সিংহ নৃত্য, এবং “হংবাও” (লাল খাম) নববর্ষের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাল রঙ সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা কনিষ্ঠদের মাঝে লাল খামে অর্থ প্রদান করে আশীর্বাদ জানান।
চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়ে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন বছর উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য রেড প্যাকেট, উপহার সামগ্রী এবং শুভেচ্ছা কার্ড প্রদান করে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে ঐতিহ্যবাহী চীনা খাবার—যেমন ডাম্পলিং (জিয়াওজি), রাইস কেক (নিয়ানগাও) এবং বিশেষ উৎসবের পদ—পরিবেশন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্রি মিলের ব্যবস্থাও থাকে, যাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা উৎসবের আনন্দে সামিল হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এই সময় একত্রিত হয়ে সাংস্কৃতিক বিনিময়, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ফটোসেশনসহ আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
চীনা নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়; এটি পরিবার, ঐক্য ও ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। দূর দেশে অবস্থান করেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এই উৎসবের মাধ্যমে চীনা সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অনুভব করে।
এই পারস্পরিক সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই সেতুবন্ধন ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর ও স্থায়ী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবে—এটাই প্রত্যাশা।
Raoha
BCYSA.ORG এর নিউজ-এ আপনিও লিখতে পারেন। গণচীনে প্রবাস জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খবরাখবর, আনন্দ-বেদনার গল্প, স্মৃতিচারণ, ভ্রমণ, অনুভূতি, বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর ছবিসহ আমাদের (বাংলা অথবা ইংরেজিতে) পাঠাতে পারেন। লেখা পাঠানোর ইমেইল : [email protected]।